বাংলা এবার দিল্লি গড়বে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৯

বাংলা এবার দিল্লি গড়বে। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের মাথাভাঙার সভা থেকে দিল্লি গড়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ৪২ এ ৪২ টি আসন জিতে দিল্লির সরকার বাংলা গড়বে। বাংলা দেখাবে, বাংলা যা পারে আর কেউ পারে না।

বিজেপিকে হারাতে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দিয়ে ফেডারেল ফ্রন্ট তৈরির ডাক প্রথম দিয়েছিলেন মমতাই। তার মূল লক্ষ্য, বিভিন্ন রাজ্যে প্রধান আঞ্চলিক দলগুলোর শক্তিবৃদ্ধি। যাতে কেন্দ্রে বিরোধীদের মিলিত সরকার গড়ার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দলগুলোর ভূমিকা প্রাধান্য পায়।

ফলে রাজ্য থেকে তৃণমূল যত বেশি সংখ্যক আসন জিততে পারবে, কেন্দ্রে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের জোর তত বাড়বে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার এই দিনের বক্তব্য তারই প্রকাশ।

তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা ইতোমধ্যেই বলছেন, মমতা দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। মমতা নিজে অবশ্য বলেছেন, তিনি পদের প্রত্যাশী নন। তার বক্তব্য, নেতা কে হবেন, তা ঠিক হবে ভোটের পরে।

বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারের সভাতেও আক্রমণাত্মক ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে আগাগোড়া দু’টি শব্দ ব্যবহার করেছেন তিনি, একটি হলো-‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী’ এবং অপরটি ‘ভুয়া চৌকিদার’। তিনি বলেন, পাঁচ বছরে কিছু ভাবার সময় হল না। এখন ভোটের সময় বলছে, আমি ভাবছি। যেন হরিদাস। আর ভাবার সময় নেই। তোমাকে আর ভাবতে হবে না। অনেক ভেবেছো বাবা। তুমি মুহাম্মদ বিন তুঘলকের ঠাকুরদাদা, হিটলারের জ্যাঠামশাই। ফ্যাসিবাদী শক্তি।

নোটবন্দি এবং এনআরসি প্রসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, আসামে ওরা হিন্দু এবং মুসলিম বঙ্গভাষীদের তাড়াচ্ছে। বাংলা সবাইকে আশ্রয় দেবে। তার অভিযোগ, নোট বাতিল করে করে প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষদের বিপাকে ফেলেছেন। এনআরসিতে আসামের ৪০ লাখ মানুষ বিপাকে পড়েছে। পাহাড়ে আগুন জ্বালানোর পেছনেও মোদির ইন্ধন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মোদির বিরুদ্ধে হঠকারিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, হঠাৎ মনে হল নোট বাতিল করলেন। হঠাৎ মনে হল জিএসটি করে দিলেন। হঠাৎ মনে হল তিনি চৌকিদার হয়ে গেলেন। হঠাৎ মনে হল উনি চাওয়ালা হয়ে গেলেন। আবার একটা সিনেমাও বানিয়েছে। কেন লোকে দেখবেন ওকে?

এর পরেই তিনি তুলে ধরেন গত ৫ বছরে বেকারত্বের প্রসঙ্গ। বিএসএনএল কর্মীদের বেতন না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে ২ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছে। অথচ ক্ষমতায় আসার সময় এরাই বলেছিল, কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা করে দিয়ে দেবে। তাহলে কত বড় ধুরন্দর ভাবুন। ভোট নিয়েছেন ধাপ্পা দিয়ে। ভোটের পরে এখন আবার চাওয়ালা চৌকিদার সেজেছেন।

টিটিএন/এমকেএইচ

টাইমলাইন  

আপনার মতামত লিখুন :