বিশ্বজুড়ে লাখো মার্কিন সেনা মোতায়েন, তবুও চ্যালেঞ্জের মুখে পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৩ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬
ছবি: ইউএস আর্মি

ইরানের সাথে চলমান সংঘাত এবং চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তার হুমকির মধ্যেই বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতার এক বিশাল চিত্র সামনে এনেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। এতে দেশটির সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি চিত্রিত হয়ে বেশ কিছু সামরিক দুর্বলতা এবং অসংগতি। 


বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সিনেট সশস্ত্র পরিষেবা উপকমিটির (সিনেট আর্মড সার্ভিসেস সাবকমিটি) শুনানিতে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৬০টি দেশে ১ লক্ষ ৮ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

ডায়ানা মৌরার (জিএও কর্মকর্তা) বলেন, ‘আমেরিকার সামরিক বাহিনী বিশ্বের শক্তিশালী হলেও, পুরোনো সরঞ্জাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কারণে আমাদের সেনাদের অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’

আর্মি ভাইস চিফ জেনারেল ক্রিস্টোফার লেনেভ সিনেটরদের জানান, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে একই সাথে একাধিক অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। বিশ্বের ১৬০টি দেশে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি সেনা সক্রিয় রয়েছে। এসব সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য পশ্চিম গোলার্ধের স্বার্থ রক্ষা, ইন্দো-প্যাসিফিকের আগ্রাসন রোধ এবং বিশ্বব্যাপী হুমকির মোকাবিলা করা।

ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অত্যন্ত ‘জটিল ও বিপজ্জনক পরিবেশে’ মার্কিন সেনারা কাজ করছে। তারা ক্রমাগত মিসাইল ও ড্রোন প্রতিহত করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করছে। 

অ্যাডমিরাল জেমস কিলবি জানান, নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুপক্ষের ওপর হামলা এবং মিত্রদের রক্ষায় সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব রুখতে তারা প্রতিদিন মহড়া ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে নৌবাহিনীর লক্ষ্য হলো ৮০ শতাংশ জাহাজ ও সাবমেরিনকে যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা।

জেনারেল জেমস ল্যামন্টেন জানান, তারা প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৫০০ পাইলট প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং বি-২১ বোমারু বিমানের মতো অত্যাধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহাকাশ সক্ষমতাকে আধুনিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা এবং নেভিগেশনের জন্য নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েনের জন্য মেরিন ফোর্সকে একটি সমন্বিত ‘স্ট্যান্ড-ইন ফোর্স’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

এত বিশাল সামরিক তৎপরতা সত্ত্বেও গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও) কিছু গুরুতর সমস্যার কথা জানিয়েছে। এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে, জাহাজ ও বিমান মেরামতের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে অনেক সময় সামরিক প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

সূত্র:আইএএনএস

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।