তরুণ-তরুণীরাই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের অধিক ঝুঁকিতে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:৫৭ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৯

>> চার ধরনের ডেঙ্গুতেই আক্রান্ত হচ্ছে রোগীরা
>> নারীদের তুলনায় পুরুষরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি
>> দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি ৫ শতাংশ
>> আগস্টে অধিক সংখ্যক আক্রান্তের সম্ভাবনা

দেশের অধিক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাই এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার অধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন। রাজধানীতে চার ধরনের ডেঙ্গুতেই (ডেন-১, ২, ৩, ৪) নারী, পুরুষ ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছেন। নারীদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিতীয়বারের মতো ভিন্ন এক বা একাধিক ডেঙ্গু ষ্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

তবে দ্বিতীয়বারের মতো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ১ থেকে ৫ শতাংশের মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। বিগত বেশ কয়েক বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, আসছে আগস্ট মাসে অধিক সংখ্যক মানুষের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের উদ্যোগে চলমান ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব ও সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সী গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০০০ সালের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগে প্রথম ডেঙ্গু সেরাটাইপ নির্ণয় করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত গবেষণা পরিচালিত হয়। দুই বছর বিরতির পর চলতি বছর আবার গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সী গবেষণা ও ফলাফল তুলে ধরে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬৭ জনের ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা করা হয়। রক্ত পরীক্ষায় ২৬ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৪০ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। জানুয়ারিতে ৬৫ জনের মধ্যে ১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৬৬ জনের মধ্যে ১ জন, মার্চে ১০৭ জনের মধ্যে ১ জন, এপ্রিলে ১৫৪ জনের মধ্যে ৮ জন, মেতে ১৮৫ জনের মধ্যে ২৬ জন, জুনে ৪৯১ জনের মধ্যে ২০৩ জন ও জুলাই মাসে ২ হাজার ৯৯৯ জনের মধ্যে ৮০০ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। শতকরা হিসাবে জুন মাসে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। জুলাইয়ে ধরা ২৭ শতাংশ। আনুপাতিক হিসাবে পুরুষ ও নারীর আক্রান্ত হওয়ার হার যথাক্রমে ১ ও ২ দশমিক ৭ ভাগ। অর্থাৎ একজন নারীর বিপরীতে ২ দশমিক ৭ জন পুরুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

গবেষণার মূল ফাইন্ডিংস কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী অধিক কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরাই অধিক সংখ্যায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। চার হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ২৬ শতাংশ এনএসওয়ান, ৬ শতাংশের ডেঙ্গু আইজিএম, ৫ শতাংশের আইজিএমও আইজিজি পাওয়া যায়। চার ধরনের ডেঙ্গু ১, ২, ৩ ও ৪-এ আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই একাধিক স্ট্রোইন দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।’

সার্কুলেটিং ডেঙ্গু স্ট্রেরোটাইপ-২০১৯-এ মোট ৭২টি নমুনার মধ্যে ডেন-১ ৭টি, ডেন-২ ২১টি, ডেন-৩ ১৮টি, ডেন-৪ ৭টি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ডেন ২ ও ৩ ১৩টি, ডেন ২ ও ৪ ১৮টি ও ডেন ১ ও ৩ ১৭টি পাওয়া যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রারসহ ভাইরোলজি বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ/এসআর/এমকেএইচ

টাইমলাইন