যশোরে ৫৫ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৯

সারাদেশের মতো যশোরেও প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২১ দিনে (সোমবার দুপুর পর্যন্ত) জেলায় ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন ২৬ জন।

এদিকে প্রতিদিন রোগী বাড়লেও সরকারি এই হাসপাতালে নেই ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা। ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের এনএস১, আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার জন্য বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে রোগীদের। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পেতেও বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও তার স্বজনরা। সরকারি হাসপাতালে মিলছে শুধু কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবি) পরীক্ষা।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্ব) ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষা করানো যাচ্ছে। রিএজেন্ট না থাকায় লে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের বাকি পরীক্ষাগুলো করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের। সেখানে পা রাখারও জায়গা নেই। বেড ও মেঝেতে রোগীর ছড়াছড়ি। মশারির মধ্যে রাখা হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তদের।

এরমধ্যেই কেউ কেউ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তোষ আছে। তবে ডেঙ্গু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিকে। রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে।
যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাসিন্দা ইমান আলী (৬৫) জানান, তার কোমরের সমস্যা আছে। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। পাঁচদিন হলো এই হাসপাতালে ভর্তি। তবে এখানে পরী-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তাই বাইরের ক্লিনিক থেকে করতে হয়েছে।

চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব কুমার (৪৫) বলেন, পাঁচদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখন অনেকটা সুস্থ আছি। বাড়ি থাকতেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছি।

সদর উপজেলার ছোট মেঘলা গ্রামের ইমরান হোসেন (২২) বলেন, ঢাকায় ছিলাম। সেখান থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছি। চারদিন হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। বাইরের ক্লিনিক থেকে করতে হয়েছে।

পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেখসনা খাতুন বলেন, এই ওয়ার্ডে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে। প্রতিদিনই রোগী বাড়ছে। আমরা সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি।

যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ইমদাদুল হক রাজু বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত এ জেলায় ৫৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২৬ জন যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

তিনি আরও বলেন, সিভিল সার্জন অফিসে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ সেল খোলা হয়েছে। সর্বস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য শিক্ষা সচেতনতার জন্য জেলা পর্যায়ে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাও কাজ করছে। তথ্য অফিসের সহযোগিতায় মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এমএমজেড/এমকেএইচ

টাইমলাইন