ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে এবার গৃহবধূর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ২৮৬ জন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:০৬ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০১৯

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৩ জন, আর জেলায় মৃতের সংখ্যা ৭ জনে দাঁড়াল। বাকি ৪ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মৃত ওই নারীর নাম লিপি আক্তার (৩০)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ডোমরাকান্দি গ্রামের মাহাবুব খলিফার স্ত্রী। তিনি একজন গৃহিণী। তার ৭ বছরের একটি ও ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন লিপি আক্তার। দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শুক্রবার তিনি মারা যান।

লিপির ছোট দেবরের স্ত্রী (জা) নাছিমা আক্তার জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিপি আক্তারকে ভর্তি করা হয়। পরে তার রক্ত পরীক্ষা করে জানা যায় তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে মারা যান তিনি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুইদিন আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন লিপি আক্তার। পরে তার রক্ত পরীক্ষা করে জানা যায় সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। চিকিৎসাধীন অবস্থার শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৬০ রোগী ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. এনামুল হক জানান, গত ২০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন ১৮৬ জন। ৪১ জনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। মারা গেছেন ২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮৬ জন।

এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২০৯ জন, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২১ জন, আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফরিদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালে ২৮ জন, আরোগ্য সদন হাসপাতালে ১৫ জন ও সমরিতা হাসপাতালে ২ জন ভর্তি আছেন।

এর আগে গত ০১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান শারমীন (২২) নামে এক তরুণী। তিনি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার মো. রুবেলের মেয়ে।

এরপর ৭ আগস্ট বুধবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে মারা যান আব্দুল জলিল সরদার (৫০) নামে এক ব্যক্তি। তিনি পেশায় একজন কৃষক। নগরকান্দা উপজেলার মুকুল সরদারের ছেলে তিনি।

বি কে সিকদার সজল/এমএএস/পিআর

টাইমলাইন