ডেঙ্গুর ভয়ে হাসপাতালেও মশারির ভেতর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ৩১ জুলাই ২০১৯

ডেঙ্গু মশার ভয়ে হাসপাতালেও মশারির ভেতর থাকছেন রোগীরা। রাজধানীর বড় মগবাজার ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল হাসপাতাল ও কলেজে এমন চিত্রই দেখা যায়। হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের একটি বেডে শুয়ে ছিলেন মেডিকেল কলেজ শাখার একজন স্টাফ। নেছার উদ্দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত রোববার হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। মশারি টাঙিয়ে বেডেই শুয়ে ছিলেন তিনি।

কর্তব্যরত চিকিৎসক আসায় মশারি খুলে পেছনের দিকে গুছিয়ে রাখেন। চিকিৎসক ব্লাড প্রেসারসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

আশপাশের অধিকাংশ বেডেই মশারি টাঙিয়ে রাখতে দেখা যায়। রোগী আর স্বজনদের ভিড় ওয়ার্ডগুলোতে। অসুস্থ স্বজন যখন বিছানায় কাতরাচ্ছেন তখন তারাও আতঙ্ক নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানার।

ডেঙ্গু আক্রান্ত বাবার দেখভাল করছেন ছেলে নূর মোহাম্মদ। মশারি টাঙিয়ে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মশার কামড়েই তো ডেঙ্গু হয়েছে। হাসপাতালে আবার মশা যেন না কামড়ায় সেই ভয় থেকেই মশারি টাঙিয়ে রাখা।

Comunity-Clinic-1

শিশু বিভাগের বাইরে থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুদের আর্তনাদ ভেসে আসে। ঢুকতেই দেখা যায়, অভিভাবকদের কেউ কেউ অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে বিছানায় বসে আছেন। কেউ কেউ আবার গা মুছে দিচ্ছেন।

শিশু বিভাগে কথা হয় চিকিৎসক ডা. সেলিনা সুলতানার সঙ্গে। এর আগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশুর শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক আছে কী না, কালো পায়খানা হয় কী না, চোখে লাল ভাব আছে কী না এইগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি আমরা। পাশাপাশি রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

হাসপাতালটিতে ঢোকার সময়ই মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের গন্ধ পাওয়া যায়। পুরো হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বেশ কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী তখনো কাজ করছিলেন।

Comunity-Clinic-1

জুন-জুলাই মাসে ১ হাজার ৫০০ জন থেকে ২ হাজার ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ২৪৬ জন ভর্তি হয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ জন ভর্তি হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। যার মধ্যে শিশুই ১২ জন।

কমিউনিটি হাসপাতালের জুনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম এ সব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে রোগীর চাপ বেশি থাকায় আমরা অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করি। এখন আমাদের বেড না থাকায় অনেক রোগীকেই অন্য হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

এইউএ/এসএইচএস/পিআর

টাইমলাইন  

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]