ডেঙ্গু নিয়ে হাসি ঠাট্টা নয় : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৯

ডেঙ্গু নিয়ে কোনো হাসি ঠাট্টা করা যাবে না। একই সঙ্গে ভয় না পেয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, জ্বর হলে সাথে সাথে পরীক্ষা করানো উচিত। একই সঙ্গে শুধু পানিজাতীয় খাবার খেতে হবে।

সোমবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু হলে চিকিৎসা করাতে হবে। বার বার প্লাটিলেট পরীক্ষা করতে হবে। এ বিপদ থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। অন্যান্য দেশে কী হচ্ছে সেটাও দেখা উচিত। এডিস মশা কামড়ালে জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে। আমার হয়েছিল তাই আমি বুঝি।

তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য এডিস মশা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের জলবায়ু থাকবে। এ মশা বেশি ঠান্ডা ও বেশি গরমে মারা যায়। ২৫ থেকে ২৯ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এডিস মশা বেশি হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে এ এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি।

মশা মারার ওষুধে কাজ হয় না -এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশে না হয় ওষুধে কাজ করে না কিন্তু ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের মতো দেশেও ডেঙ্গু হয়। সেখানে তো ওষুধ দেওয়া হয়। তাহলে তাদের ওষুধ কেন কাজ করে না। আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য এটা হচ্ছে। সব দেশেই একই অবস্থা।

গত মাসের শুরুর দিকে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়। সে সময়ই আক্রান্ত হয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ১৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের দু'দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। হাসপাতাল থেকে সরাসরি সংসদে যান অর্থমন্ত্রী, কিন্তু বাজেট অধিবেশনে কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট উপস্থাপন করেন।

ওই দিনই তার জীবনের ‘চরম সংকটের দিন’ ছিল বলেও জানান ৭২ বছর বয়সী মুস্তফা কামাল। বলেন, এর তিনদিন আগে ডেঙ্গু জ্বরে ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং হাসপাতালে ভর্তি হই।

আর কারও যেন ডেঙ্গু রোগ না হয় সে প্রার্থনাও করেন অর্থমন্ত্রী। তবে গত দেড় মাসে (২৮ জুলাই পর্যন্ত) সরকারি হিসেবে ঢাকায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৬৫৪ জন এবং এর মধ্যে মারা গেছেন আটজন। অবশ্য বেসরকারি হিসাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি বলা হচ্ছে।

এমইউএইচ/আরএস/এমএস

টাইমলাইন