শিশু হাসপাতালে ভর্তি হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৯

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিশু মাহবুব ইসলাম (৫)। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে বাবা-মাকে নিয়ে উপস্থিত। চিকিৎসকরা মাহবুবকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। কিন্তু সিল খালি না থাকায় বিকেল ৩টা পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি তাকে।

মাহবুবের বাবা রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চিকিৎসকরা লিখে দিলেও সিট ফাঁকা না থাকায় কাউন্টার থেকে ভর্তি নিচ্ছে না। তাই অপেক্ষা করছি, সিট ফাঁকা হলে ছেলেকে ভর্তি করব।’

গত ২৭ জুলাই ঢাকায় এলেও অনেক চেষ্টা করেও শিশু হাসপাতালগুলোতে ছেলেকে ভর্তি করাতে পারছেন তার বাবা।

child

শুধু মাহবুব ইসলাম নন, এ রকম অনেক বাবা-মা ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারছেন না। ডেঙ্গু আক্রান্ত ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা অন্য রোগীদেরও ভর্তি করানো হচ্ছে না। হাসপাতালের শয্যা খালি না থাকায় ভর্তি করানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরেক ভুক্তভোগী মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে আসা মো. সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী। ছয় বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের সামনে অপেক্ষারত। সাইফুল বলেন, ‘আমার বাচ্চার লিভারে সমস্যা। সকালে রওনা দিয়েছিলাম, এখানে আসতে আসতে বেলা ১১টা বেজে গেছে। ডাক্তাররা ছেলেকে ভর্তি করতে বলেছেন। কিন্তু সিট খালি নাই। তাই অপেক্ষা করছি।’

দুপুরে ঢাকা শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গুসহ নানা জটিলতা নিয়ে এ হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছেন অনেক বাবা-মা। চিকিৎসকরা ভর্তির পরামর্শ দিলেও শয্যা খালি না থাকায় অপেক্ষা করছেন তারা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও সন্তানকে ভর্তি করাতে না পেরে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন বাবা-মা।

child

এ বিষয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. আবু তৈয়ব জাগো নিউজকে বলেন, ‘হাসপাতালে সিট খালি নেই। কোনো রোগীকে ছুটি দিলেই অন্য রোগীকে ভর্তি করতে পারছি।‘

তিনি বলেন, এ অবস্থায় যেসব ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা একটু ভালো, তাদের পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি। যাদের অবস্থা খুব খারাপ, তাদের ভর্তি করছি।’

এ বিষয়ে হাসপাতালটির শিশু, পুষ্টি, লিভার ও পরিপাকতন্ত্র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ সুয়াজ বলেন, আজ সকালে ৮০ জন রোগী জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে মাত্র ৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে একধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রাথমিক পরিচর্যা দিলেই কিন্তু ভালো হয়ে যায়। সবাইকে (তুলনামূলক শারীরিক অবস্থা ভালো) ভর্তি না করে কাউন্সিলিংকে আরও জোরদার করলে রোগী ভর্তি কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে হবে।’

পিডি/জেএইচ/জেআইএম

টাইমলাইন