মশা নিধনে ঝটিকা অভিযানের প্রতিশ্রুতি দুই সিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৯

মশা নিধনে তিন দিন ঝটিকা অভিযান চালানো হবে বলে হাইকোর্টে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে এ প্রতিশ্রুতি দেন। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেন, ‘সারাদেশের মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত। ঘরে ঘরে মানুষ আক্রান্ত। ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নির্মূলে এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর ওষুধ আনবেন। কীভাবে আনবেন, সে প্রক্রিয়া বলুন।’

একই সঙ্গে, বেলা ২টার মধ্যে দুই সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তা জানাতে বলেন আদালত।

পরে আবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাইকোর্টের শুনানিতে তারা ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নির্মূলে এবার বিদ্যমান ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার কথা হাইকোর্টকে জানান ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আইনজীবী।

একই সঙ্গে, নতুন কার্যকর ওষুধ আনতে এক মাস সময় লাগবে বলে জানান তারা। ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে যৌথ অভিযানে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার এ আইনজীবীরা সময়ের আরজি জানান। তাই অগ্রগতি জানাতে আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফায়রোজ।

শুনানিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যমান ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া যেতে পারে। একবারের জায়গায় একাধিক বার ফায়ার (স্প্রে) করা হবে।’ তখন আদালত বলেন, ‘তিনবার বা পাঁচবার গুলি (স্প্রে) মারতে পারেন। কিন্তু আমরা চাই মশা মরুক।’

ঢাকার দুই সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আজ বেলা ১১টায় আদালতে হাজির হতে গত ২২ জুলাই নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ আদেশ অনুসারে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা হাইকোর্টে হাজির হন। আদালত তাদের বক্তব্য শোনেন। পরে এডিস মশা নির্মূলে এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর ওষুধ আনার প্রক্রিয়া জানতে চান হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে দুপুর দুইটার মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এ তথ্য জানাতে বলা হয়। দুপুর দুইটায় আদালতের শুনানিতে দুই সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আইনজীবীরা এডিস মশা নির্মূলে ওষুধের মাত্রা বাড়ানোর কথা বলেন। এবং মশা নির্মূলে দুই সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে জটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান আইনজীবীরা।

মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১৪ জুলাই হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারির আদেশ দেন। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নির্মূলে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিবাদীদের জানাতে বলা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় পরে গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফায়রোজ দুই সিটি কর্পোরেশনের পদক্ষেপ-সম্পর্কিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।

এ প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। তাই এ কার্যক্রমের বিষয়ে জানাতে দুই সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আজ তাদের উপস্থিতিতে দুই সিটিতে তিন দিন জটিকা অভিযান পরিচালনা করে আগামী ৩০ জুলাই আদালতকে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

এফএইচ/এনডিএস/পিআর/এমকেএইচ

টাইমলাইন