বগুড়ায় চিকিৎসকসহ ১১০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৯

বগুড়ায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এতদিন সব রোগী বগুড়ার বাইরে থেকে আসলেও মঙ্গলবার বগুড়ার দন্ত চিকিৎসক সাব্বির মোস্তাক ডুরেন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তিনি সম্প্রতি বগুড়ার বাইরে কোথাও যাননি। অর্থাৎ বগুড়াতেই এডিস মশার কামড়ে অসুস্থ হয়েছেন চিকিৎসক সাব্বির মোস্তাক।

বগুড়ার বেসরকারি বড় দুটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোর তথ্যমতে, জুলাই মাসে ১১০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪৮ জন। এরা সবাই চিকিৎসাধীন।

এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ১০ জন এবং ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ জন। এর বাইরে শহরের বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আরও পাঁচজন। হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশির ভাগই রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

শুধু বগুড়ায় আক্রান্তর মধ্যে দন্ত চিকিৎসক সাব্বির মোস্তাক ডুরেন রয়েছেন। তিনি বেসরকারি ক্লিনিক সামসুন্নাহারে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সমন্বয়ক ডা. আরিফুর রহমান তালুকদার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

bogura

বগুড়ার সিভিল সার্জন অফিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, ডেঙ্গু আক্রান্তরা বগুড়া ও বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবাণু বহন করে এনেছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য শজিমেকের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের নেতৃত্বে ১০ জন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বহির্বিভাগের সামনে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে।

শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আরিফুর রহমান তালুকদার বলেন, এখানে ব্লাড সেল সেপারেটর মেশিন নেই। অনেক আগে কোনো একটি সংস্থা দুটি সেল সেপারেটর মেশিন দিলেও তা বর্তমানে অকেজো। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হলেও হেমোরেজিক ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার কোনো সরঞ্জাম নেই। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। রোগীদের জাতীয় গাইডলাইন মোতাবেক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। যারা ঢাকায় যেতে চাচ্ছেন তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়।

বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, বগুড়ায় এডিস মশার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যারা আক্রান্ত তারা সবাই ঢাকা থেকে জীবাণু বহন করে এনেছেন। তবে নতুন করে বগুড়ায় একজন আক্রান্ত হওয়া খবর এখনো আমি জানি না।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বগুড়ার জনসংযোগ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের এখানে ডেঙ্গু রোগীদের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেয়া ৪০০-৫০০ টাকা নেয়া হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডে ৪৪ জন এবং নারী ওয়ার্ডে চারজন রোগীকে দেখা গেছে।

রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনেরা জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার জন্য রক্তে এনএসআই এন্ট্রিজেন, আইজিজি ও আইজিএম এবং সিবিসি ও প্লাটিলেট পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মুসা আল মুনসুর বলেন, হাসপাতালে ব্যবস্থা না থাকায় আইজিজি ও আইজিএমসহ ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য কয়েকটি পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে হয়।

অপরদিকে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। হাসপাতালের দোতলায় আলাদা ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য ১০ সদস্যের স্পেশাল ম্যানেজমেন্ট টিমও গঠন করা হয়েছে বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম রসুল জানিয়েছেন।

লিমন বাসার/এএম/এমএস

টাইমলাইন