রংপুরে কিট সংকটে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ০৪ আগস্ট ২০১৯
ফাইল ছবি

রংপুরে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা (এনএসওয়ান) ব্যাহত হচ্ছে। সীমিত কিট দিয়ে দুই-একটিতে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হলেও তা দ্রুত বন্ধের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কিটের অভাবে গত ১ আগস্ট থেকে রংপুরের অন্যতম ডায়াগনস্টিক সেন্টার আপডেট এবং ৩ আগস্ট থেকে পপুলার ডাগানস্টিক সেন্টারসহ ছোট ছোট রোগ নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এছাড়াও ল্যাবএইড শনিবার পর্যন্ত মাত্র ৩০টি কিট দিয়ে এবং রংপুর কমিউনিটি হাসপাতাল চাহিদার অনেক কম কিট দিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা নামমাত্র অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে আপডেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক (সমন্বয়কারী) নিয়ামুল আতিকুর রহমান পুলক বলেন, কিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়েছি ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে। তবে কিট প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে আবার ডেঙ্গু পরীক্ষা চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।

একই কথা জানালেন রংপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন, শনিবার পর্যন্ত আমরা সেবা দিতে পেরেছি। এরপর কিট না থাকায় বন্ধ আছে।

রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল আলম আল-আমিন বলেন, ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি কিট ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় সংগ্রহ করে বেশ কিছুদিন ধরে আমরা ডেঙ্গু পরীক্ষা চালিয়ে আসছিলাম। সর্বশেষ বুধবার ১শ কিটের অর্ডার দিলে তারা মাত্র ১০টি দিতে সক্ষম হয়।

ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নির্বাহী কর্মকর্তা (রিপোর্ট) মো. অপু বলেন, শনিবার ঢাকা অফিস থেকে মাত্র ৩০টি কিট দিয়েছে। তা দিয়ে ব্যাপক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করতে আগ্রহী ফরেদুল হাসান, আব্দুল কবীরসহ অনেকে অভিযোগ করেন, অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আগে এ রোগের পরীক্ষা হলেও বর্তমানে হচ্ছে না। তারা সরকারিভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালসহ সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরু করার দাবি জানান।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, আমরা নিজস্ব উদ্যোগে হাতেগোনা কিছু কিট এনে মেডিকেলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করছি। তবে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। যদি কেউ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসক তার ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বলেন অবশ্যই তার পরীক্ষা করা হবে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কী কারণে ডেঙ্গু পরীক্ষা হচ্ছে না, আমরা তা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অবগত করব।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিট থাকার পরও বেশি অর্থের জন্য প্রতারণা শুরু করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিতু কবীর/এমএমজেড/পিআর

টাইমলাইন