বমি করতে করতে যেন দম যায়

প্রদীপ দাস
প্রদীপ দাস প্রদীপ দাস , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৯

হাসপাতালে প্রবেশ করে একটু এগিয়ে যেতেই দুই সেবিকার দেখা মেলে। তারা ডেঙ্গু নিয়ে কী যেন বলছিলেন। তাদের পাশ কাটিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেট্রন বিভাগে প্রবেশ। সৌজন্য কথাবার্তার পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীরা কোথায় ভর্তি- জানতে চাইলে এক সেবিকা বলেন, ‘সব জায়গায়ই ডেঙ্গু রোগী আছে। গেলেই পেয়ে যাবেন।’

হাসপাতালটির একটি ওয়ার্ডে রোগীর পাশে বসে থাকা এক নারীর কাছে জানতে চাইলাম, এখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি কে? জেসমিন খানম নামের ওই নারী জানান, তার ছেলে অন্তর খানই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। তিনি জানান, এ ওয়ার্ডের অধিকাংশ রোগীই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।

holly-family

হাসপাতালটির রোগী, সেবিকা, চিকিৎসক- সবার মুখে মুখে ফিরছে ডেঙ্গুর কথা। হাসপাতাল ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ রোগের বিস্তারে ক্ষোভ, রাগ, আতঙ্কের সঞ্চার হয়েছে সবার মাঝে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, হলি ফ্যামিলিতে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৫৮৫ রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ১৬০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

holly-family

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি এসব রোগীর কষ্টের যেন অন্ত নেই। রাজধানীর মালিবাগের ষাটোর্ধ্ব মো. সানাউল্লাহ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন পাঁচদিন ধরে। পেটে ব্যথা, বমি, শরীর ব্যথাসহ প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে তিনি ভর্তি হন। শরীর ব্যথা, জ্বর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বমি এখন পর্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত।

তার ছেলে মো. মামুন জানান, সানাউল্লাহ অল্প বিরতিতে ক্রমাগত বমি করে যাচ্ছেন। বমির জন্য তারা আলাদা একটি পাত্র কিনেছেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা যায়, কাশির সঙ্গে বমি করতে গিয়ে যেন দম নিতে পারছেন না সানাউল্লাহ।

 holly-family

ছয় বছর বয়সী আবির হোসেনেরও সোমবার (২২ জুলাই) থেকে পেটে ব্যথা ও পাতলা পায়খানা। ছয়দিন ধরে এ হাসপাতালে ভর্তি আবিরের বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, তার ছেলের জ্বর ১০০ ডিগ্রির নিচে নামছেই না।

আদরের ছোট এই শিশুর কষ্ট পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাকি রোগীদের স্বজনদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটছে না।

পিডি/বিএ/আরএস/এমএআর/পিআর

টাইমলাইন