মাঝরাতে আর মায়ের ঘুম ভাঙাবে না রিয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০১৯

পাষাণের মতো ভার হয়ে থাকা স্মৃতিগুলো যেন বুকের ভেতর থেকে ঠেলে ঠেলে উথলে উঠছে বারবার। এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিচ্ছে বুকের চারপাশ। হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে বাড়ি ফেরার যে তাড়া, আধো আধো কণ্ঠে বাবা ডাক শোনার যে ব্যাকুলতা- তা হয়তো বুকের জমিনে মুখ থুবড়ে নিথর হয়ে পড়ে থাকবে আশরাফুল আলমের।

আদরের সন্তানকে হারানোর বেদনা, মাঝরাতে সন্তানের গায়ের গন্ধে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পাশবিক যন্ত্রণা কুরে কুরে খাবে মা লাবণী বেগমকে। সন্তানকে ঘিরে বুকভরা ভালোবাসা আর যে স্বপ্ন জেগে ছিল আশরাফুল ও লাবণীর মনে আজ থেকে তা ধূসর, রঙচটা বিবর্ণ কোনো অভিধানের পাতা হয়ে গেল। নিষ্ঠুর ডেঙ্গু কেড়ে নিল আশরাফুল ও লাবণীর হাঁটতে শেখা একমাত্র বুকের ধন।

এর মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সারিতে যোগ হলো শিশু রিয়ানা আক্তারের নাম। শিশু রিয়ানা গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নকাইহাটের বাসিন্দা আশরাফুল ও লাবণী দম্পতির একমাত্র সন্তান।

ডেঙ্গুতে একমাত্র বুকের ধনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ রিয়ানা আক্তারের বাবা আশরাফুল। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করি আমি। বছর তিনেক আগে জন্ম হয় রিয়ানার। একমাত্র বুকের ধনের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়তে লড়াইটা শুরু করেছিলাম একাই। সন্তানের দেখাশোনার জন্য স্ত্রীকে কোথাও কাজ করতে দেইনি। কিন্তু অমোঘ নিয়তি সবকিছু ছাপিয়ে অনেক দূরে নিয়ে গেল রিয়ানাকে।

আশরাফুল আরও বলেন, ২ আগস্ট হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলে রিয়ানাকে নারায়ণগঞ্জের মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিয়ানার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর ৩ আগস্ট রিয়ানাকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় রিয়ানা। মাঝরাতে আর মায়ের ঘুম ভাঙাবে না রিয়ানা। ভোরের পাখির মতো আমাদের আর জাগাবে না।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের মুখপাত্র ডা. সাইদুজ্জামান বলেন, রিয়ানা আগে থেকেই নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে গত ৩ আগস্ট রিয়ানাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চারদিন চিকিৎসাধীন থেকে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মারা যায় রিয়ানা।

জিতু কবীর/এএম/জেআইএম

টাইমলাইন