ডেঙ্গু রোগীর শুশ্রূষায় নাভিশ্বাস নার্সদের

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ২৮ জুলাই ২০১৯

রাজধানীর সরকারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার কারণে তাদের অধিকাংশকে এখন আর শয্যায় রেখে চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। শয্যার অভাবে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীদের কাউকে ওয়ার্ডের বারান্দা আবার কাউকে সিঁড়ি কোঠায় রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢামেকসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শুশ্রূষা করতে করতে নার্সদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। রাজধানীর মুগদা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে কমপক্ষে ২০ জন নার্স ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

সরেজমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ ঘুরে দেখা গেছে, ভবনটির ৬ থেকে ৮ তলা পর্যন্ত মেডিসিন ওয়াল্ডের ফ্লোর, বারান্দা এমনকি সিঁড়ির পাশে ডেঙ্গু রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। রোগীদের দেখভাল করার জন্য কর্তব্যরত নার্সরা দিগ্বিদিক দৌড়ঝাঁপ করছেন। চিকিৎসকদের লিখে দেয়া ব্যবস্থাপত্র দেখে ব্লাড প্রেসার মাপা, প্লাটিলেট কমছে না বাড়ছে তা দেখা, শিরায় স্যালাইন দেয়া ও পানীয় খেতে সাহায্য করাসহ নিবিড় সেবা প্রদান করছেন। গরম আবহাওয়ার কারণে ঘামে ভিজে একাকার হচ্ছেন। তবুও ক্লান্তিহীনভাবে তারা রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর সঙ্গে আসা উদ্বিগ্ন স্বজনদের উপস্থিতির কারণে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। নিরাপত্তারক্ষীরা রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজনদের রোগীর পাশ থেকে সরে যাওয়ার কথা বললেও তারা যাচ্ছে না। এই অবস্থা শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয়, রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মুগদা, ঢাকা শিশু হাসপাতালসহ সব হাসপাতালেই দেখা গেছে এমন চিত্র।

Dengu

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সাধারণত হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব মেডিসিন বিভাগের। কিন্তু বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মেডিসিন ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও নার্সদের একার পক্ষে রোগীদের ম্যানেজ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া রোগীদের মাধ্যমে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রোগীদের সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পরিচালকদের মাধ্যমে অন্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানাবেন বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের সাত মাস শেষ হওয়ার আগেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ফলে ডেঙ্গু আক্রান্তের নতুন রেকর্ড স্থাপিত হলো।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৬৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩৩ জন, মিটফোর্ড ৭, শিশু হাসপাতাল ৯, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ৩৬, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ২২, বারডেম হাসপাতাল ১২, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ ২৪, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৪৯, বিজিবি সদর হাসপাতালে ১৩ ও কুর্মিটোলায় ৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালে ২০৫ জন, ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালে ৪০ জন রোগী রয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের শয্যাপাশে সার্বক্ষণিক থাকতে থাকতে অনেক নার্স নিজেরাই অসুস্থ হয়ে যায়। রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে কমপক্ষে ২০ জন নার্স ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই সুস্থ হয়ে উঠলেও এখনো দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও নার্সদের অনেকে অসুস্থ হচ্ছেন। বিষয়টি সরকারের নজরে এনে কর্তব্যরত নার্সদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

এমইউ/এসআর/এমএস

টাইমলাইন