ডাক্তাররা করছেন ডেঙ্গুর চিকিৎসা, মা-বাবা করছেন প্রার্থনা

ফজলুল হক শাওন
ফজলুল হক শাওন ফজলুল হক শাওন , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৯

রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় হাই-কেয়ার ১৫ নম্বর বেডে ভর্তি নটরডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ডেঙ্গু রোগী ঋষিকেশ মন্ডল। জাগো নিউজের কাছে তিনি বলেন, আজ ৯ দিন হলো নিদারুণ কষ্ট ভোগ করছি। আমি যতটুকু কষ্ট পাচ্ছি তার চেয়ে অনেক বেশি আতঙ্কে আছে আমার বাবা-মা। তাদের চিন্তা আমি ভালো হব কি-না? আমার ভালো হওয়ার জন্য ডাক্তাররা চিকিৎসা করছেন আর বাবা-মা করছে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা।

ঋষিকেশ মন্ডলের বাড়ি মাতারীপুর জেলার টেকের হাটে। ঢাকায় আরামবাগে একটি হোস্টেলে থাকেন। নটরডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ঋষিকেশ জানান, আরামবাগে যে হোস্টেলে তিনি থাকেন সেখানে বা আশপাশে সিটি কর্পোরেশনের কাউকে ওষুধ দিতে দেখেননি।

এক প্রশ্নের জবাবে ঋষিকেশ বলেন, আমার ডেঙ্গু হওয়ার কারণে হোস্টেলের অনেকেই আতঙ্কে আছে। কেউ কেউ ভয়ে বাড়ি চলে গেছে। ডেঙ্গুর কারণে লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হলো। ৯ দিন চলে গেল, আর কত দিন থাকা লাগবে তা বলতে পারি না। তবে আজ অনেকটা সুস্থ বোধ করছি। গত দিনের চেয়ে আজ ভালো লাগছে।

রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ঋষিকেশ শুধু একা নন, হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। জুলাই মাসে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ডাক্তাররা বলছেন, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে যে পরিমাণ ডেঙ্গু রোগী ছিল তার চেয়ে এবার এ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৬ গুণ বেশি। গত বছর জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগী ছিল ২৬ জন। আর এবার জুলাই মাসে আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৮৪ জন। এছাড়া ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ৭৩ জন ও সেপ্টেম্বরে ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ছিল।

পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর ডা. মোহাম্মদ ইশতিয়াক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত আমরা ২২১ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি। প্রতিদিন এ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ রোগ কমাতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার। যেসব কারণে এ মশার জন্ম হয় তা ধ্বংস করা জরুরি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে যেসব ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা নিয়েছেন তারা ১০০ ভাগ ভালো হয়ে বাড়িতে গেছেন। আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী মারা যাওয়ার কোনো রেকর্ড নেই।

ডা. মোহাম্মদ ইশতিয়াক আরও বলেন, আমাদের এখানে মোট চারজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ডেঙ্গুর চিকিৎসা দিচ্ছেন। আগে জ্বর হলে তিনদিন দেখা হতো, কিন্তু এখন সেটা রিস্ক হয়ে যায়। জ্বর এলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো এবং পরীক্ষা করা উচিৎ।

এফএইচএস/আরএস/জেআইএম

টাইমলাইন