ডেঙ্গুর কার্যকর ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৯ পিএম, ২৮ জুলাই ২০১৯
ফাইল ছবি

ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যকর ওষুধ ছিটাতে দুই সিটি মেয়র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বন্যার্তদের মাঝে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গু আতঙ্ক দূর করতে সারাদেশে সচেতনতামূলক সভা করবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ শুধু বন্যার সময়-ই নয়, বন্যা-পরবর্তী সময়ও পুনর্বাসন পর্যন্ত বানভাসি মানুষের পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, বিএনপি ত্রাণ বিতরণের নামে ফটোসেশন করেছে, লোক দেখানো ত্রাণ বিতরণ করেছে। বিএনপি অফিস থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গুকে আমরা সহজভাবে নিচ্ছি না। আমরা সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। নেত্রী বলেছেন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। আমরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক, সতর্কতামূলক সভা-সমাবেশ করব।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারিভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী ওষুধ যেন সরবরাহ করা হয়। জনগণকে ডেঙ্গুর আতঙ্ক থেকে রক্ষা করতে হবে। জনগণকে বাঁচাতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। বন্যাদুর্গতদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, এ দুটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের ছয়টি ত্রাণ টিম প্রথম দিন থেকে সর্বাত্মক কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব রেকর্ড করেছেন। আমরা মানুষের মানবতার টানে পাশে দাঁড়াই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে না। সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও নড়িনি। তবে যাচাই বাছাইয়ের জন্য কিছুটা সময় নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেসব নেতা যাচাই-বাছাই ও তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের বেশির ভাগই ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত। তাদের ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হলে তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেব।

দেশ সঙ্কটে নেই বরং বিএনপি সঙ্কটে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নিজের ঘরেই গণতন্ত্র নেই তারা গণতন্ত্র কীভাবে প্রতিষ্ঠা করবে।

বিএনপিতে ত্রাণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে বিএনপি কয়েকটি জায়গায় মাত্র ত্রাণ দেয়ার নামে ফটোসেশন করেছেন। এটা ছিল লোক দেখানো।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য মায়া কান্না করেন বিএনপির নেতারা কিন্তু আমার প্রশ্ন গত দেড় বছর আপনাদের দেড় মিনিট রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলন করতে পারেননি। শুধু লিপ সার্ভিস দিয়ে গেছেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের দুঃখ হয় বন্যা নিয়ে যখন রাজনীতি হয়। কয়েকটি রাজনৈতিক দল সরকারের সমালোচনা করলেও বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ায়নি। তাদের কাছে অনুরোধ বন্যার্তদের নিয়ে রাজনীতি না করে তাদের পাশে দাঁড়ান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে গাইবান্ধার ফুলছড়ি, জামালপুরের ইসলামপুর, কুড়িগ্রামের রাজীবপুর, সিরাজগঞ্জের আওয়ামী লীগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পাদক সামসুন্নাহার চাঁপা, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।

এইউএ/জেএইচ/এএইচ/এমএস

টাইমলাইন