ইরানি তেল নিয়ে ভারতগামী ট্যাংকার হঠাৎ কেন চীনের পথে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৩৪ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানি তেল নিয়ে ভারতগামী ট্যাংকার হঠাৎ চীনের পথে/ প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ভারতীয় উপকূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও গতিপথ বদলে হঠাৎ চীনের দিকে রওয়ানা দিয়েছে ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ট্যাংকার। প্রায় সাত বছর পর ভারত প্রথমবার ইরান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়ায় থাকলেও, শেষ মুহূর্তে এই নাটকীয় পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শিপ ট্র্যাকিং ডেটা এবং বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এসোয়াতিনি পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘পিং শুন’ প্রায় ছয় লাখ ব্যারেল ইরানি তেল নিয়ে গুজরাটের ভাদিনার বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এর গন্তব্য ছিল ভাদিনার। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎ ট্যাংকারটি দক্ষিণ দিকে মোড় নেয় এবং নিজের নতুন গন্তব্য হিসেবে চীনের শানডং প্রদেশের ডংইং বন্দরের নাম ঘোষণা করে।

২০১৯ সালের মে মাস থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল। তবে চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ২১ মার্চ মার্কিন প্রশাসন ইরানি তেলের ওপর এক মাসের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এই সুযোগেই দীর্ঘ সাত বছর পর প্রথম ইরানি তেলের চালান ভারতে যাওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন>>
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়া প্রথম দেশ হতে পারে বাংলাদেশ
হরমুজ খুললেই কাটবে না সংকট, রেশ থাকবে বহুদিন
তেল-গ্যাস সংকটে আবারও কয়লায় ঝুঁকছে বিশ্ব

কেন এই দিক পরিবর্তন?

বাণিজ্যিক সূত্র এবং বিশেষজ্ঞরা এই পরিবর্তনের পেছনে ‘পেমেন্ট’ বা অর্থপ্রদান সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করছেন।

কেপলারের রিফাইনিং ম্যানেজার সুমিত রিতোলিয়া জানান, বিক্রেতারা (ইরান) আগে ৩০-৬০ দিনের ক্রেডিট সুবিধা দিলেও এখন তারা অগ্রিম বা খুব দ্রুত অর্থ পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে।

তাছা, ইরান আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ‘সুইফট’ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় ভারতীয় ব্যাংকগুলো লেনদেনে জড়াতে এখনো দ্বিধাবোধ করছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল হলেও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির কথা ভেবে ব্যাংক ও আর্থিক মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে লেনদেন করতে অনীহা দেখাচ্ছে।

লুকোচুরি নাকি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত?

সাধারণত নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ‘ডার্ক ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলো শনাক্তকরণ এড়াতে গন্তব্য পরিবর্তন করে। কিন্তু ‘পিং শুন’-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। যেহেতু মার্কিন সরকার বর্তমানে এই তেলের ওপর ছাড় দিয়েছে, তাই লুকোচুরির প্রয়োজন ছিল না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এটি শুরু থেকেই চীনের গন্তব্যে যেতো, তবে এর রুট সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। গুজরাটের এত কাছে এসে ফিরে যাওয়া নিশ্চিতভাবেই কোনো বাণিজ্যিক বা আর্থিক সমঝোতা না হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

সুমিত রিতোলিয়া মনে করেন, যদি পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়, তবে এই কার্গো আবারও ভারতীয় কোনো শোধনাগারের দিকে ফিরে যেতে পারে। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করলো যে, লজিস্টিক বা পরিবহন সুবিধার চেয়েও বর্তমানে বাণিজ্যিক শর্ত এবং পেমেন্ট ব্যবস্থা ইরানি তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।