ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬
ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার এর প্রভাব শুধু তেল-গ্যাসেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বব্যাপী সব ধরনের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যালুমিনিয়াম, হিলিয়াম, সালফার ও ইউরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।

এই পণ্যগুলো বিমান শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, সার শিল্প এবং চিকিৎসা প্রযুক্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এরই মধ্যে বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কাতার হামলার পর তাদের এলএনজি স্থাপনায় ক্ষতির কারণে হিলিয়াম উৎপাদন বন্ধ করেছে। তাছাড়া সার সংকট দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিভিন্ন শিল্প খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।

এদিকে রানকে ঘিরে যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চলতে থাকলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা সরবরাহের পথগুলো ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন সংকটাপন্ন অঞ্চলে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

ডব্লিউএফপির উপনির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জেনেভায় সাংবাদিকদের জানান, খাদ্য, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে। এতে বিশ্বে মোট ক্ষুধাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমান রেকর্ড ৩১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এতে বৈশ্বিক ক্ষুধার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ একটি পরিস্থিতি।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।