জাতির উদ্দেশে ভাষণ

ইরানে ‘আরও কঠোর’ হামলার হুমকিসহ যা বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ এএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের একটি রেলস্টেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়/ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১ এপ্রিল) ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আরও কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই হুমকি দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য ইরান যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল বলে দাবি ট্রাম্পের। আর সেটির ব্যাখ্যা দিতেই তিনি এই ভাষণ দিচ্ছেন বলে জানান।

প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন এর মঙ্গলবারই (৩১ মার্চ) তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে।

হোয়াইট হাউজ থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের (ইরান) ওপর অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত হানবো। আমরা তাদের পাথর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো, যেখানে তাদের থাকার কথা।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, শাসন পরিবর্তন আমাদের লক্ষ্য ছিল না। আমরা কখনোই শাসন পরিবর্তনের কথা বলিনি। কিন্তু তাদের সব শীর্ষ নেতার মৃত্যুর কারণে বাস্তবে শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে। তারা সবাই মারা গেছেন।

এর আগে বুধবারই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পরই কেবল এই অনুরোধ বিবেচনা করা হবে।

এর আগে পর্যন্ত তিনি লিখেছেন, আমরা ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি ও তাদের পাথর যুগে ফিরিয়ে নিচ্ছি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির বেশির ভাগ নেতা মারা গেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ট্রাম্প এরপর ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তারা অসাধারণ কাজ করেছে। ইরান এসব অনেক দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে ইরানের কখনই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত না। আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেবো না।

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে বলেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।

এদিকে, ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি সোলাইমানিকে ‘রাস্তার ধারে বোম পেঁতে রাখার হোতা’ বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, সোলাইমানি এখনো বেঁচে থাকলে আজ রাতে আলোচনা অন্যরকম হতো। তবে আমরাই জিততাম, বড় জয় পেতাম।

ভাষণে গত ৪৭ বছরে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ তালিকা দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের সরকারে থাকা ব্যক্তিদের ‘প্রতারক’ ও ‘খুনি’ বলেন। যুদ্ধের আগে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের চালানো দমন অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা বলেন।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে তেল আনার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রয়োজন তাদের নিজেদেরই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যুদ্ধ ‘সফল বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তাদের পরমাণু আতঙ্কে নেই। যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা, সিএনএন, বিবিসি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।