ইউক্রেনকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা ইরানের, হামলার হুমকি
ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে ইউক্রেনকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ইসরায়েলকে ড্রোন সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ইউক্রেন কার্যত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘ইসরায়েলি সরকারকে ড্রোন সহায়তা দিয়ে ব্যর্থ ইউক্রেন কার্যত যুদ্ধে প্রবেশ করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের পুরো ভূখণ্ডকে ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।’ তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
ইউক্রেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে ড্রোন সহায়তা দেওয়ার কথা স্বীকার করেনি। তবে দেশটি কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ সপ্তাহে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মোট ১১টি দেশ ইরানের নকশায় তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন মোকাবিলায় কিয়েভের সহায়তা চেয়েছে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি/ ছবি: এক্স@জেলেনস্কি
অন্যদিকে, ইউক্রেনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত শাহরিয়ার আমুজেগার ইউক্রেনের এই সহায়তাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, আমরা সেটিকে মূলত একটি হাস্যকর ও প্রদর্শনমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখি।’
কিয়েভের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিওরহি টাইখি বলেন, ইরান বহু বছর ধরে রাশিয়াকে ড্রোন ও প্রযুক্তি সরবরাহ করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা দিয়ে আসছে।
তার কথায়, ‘যে সরকার বছরের পর বছর ইউক্রেনীয়দের হত্যায় সহায়তা করেছে, তাদের মুখে আত্মরক্ষার কথা শোনা অযৌক্তিক।’
ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া নিয়মিত আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ড্রোন ইরানের শাহেদ-১৩৬র উন্নত রুশ সংস্করণ।
ইরানের পাশে রাশিয়া
ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে মস্কো সম্প্রতি আজারবাইজানের মাধ্যমে ইরানে ১৩ টন মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে ‘নিয়মিত যোগাযোগ’ রাখছেন।
এছাড়া, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১৫ কোটি ডলার আয় করছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
কেএএ/