যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানে যেতে পারেন জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৮ এএম, ২৬ মার্চ ২০২৬
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স/ ফাইল ছবি: এএফপি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ নিতে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বুধবার (২৫ মার্চ) এমন তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, তার দেশ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ‘গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ আয়োজন করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদকে সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

পাকিস্তানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধান আলোচক হিসেবে জেডি ভ্যান্সের নাম বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানি সূত্রগুলো বলেছে, তারা ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উিইটকফ কিংবা ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নয়। যুদ্ধের আগে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পরিচালনায় ছিলেন কুশনার।

পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক হতে পারে।

সূত্রগুলো বলছে, ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য আলোচনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। তবে তিনি এরই মধ্যে এই ধরনের আলোচনার খবরকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

শান্তি আলোচনা আয়োজনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীর রোববার (২২ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে এই সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এরপর সোমবার (২৩ মার্চ) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তারা উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনীতির জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত হন বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

তবে এখনো ইসলামাবাদকে আলোচনার ভেন্যু হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি ও কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সম্মতি দেয়নি। বিকল্প স্থান হিসেবে কাতার, তুরস্ক ও মিশরের নামও আলোচনায় এসেছে, যদিও সূত্রগুলো বলছে, তেহরানের পছন্দ ইসলামাবাদ।

মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া পোস্টে শাহবাজ শরীফ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতির ভিত্তিতে চলমান সংঘাতের সমাধানে গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা আয়োজন করতে পাকিস্তান প্রস্তুত এবং এ দায়িত্ব পেলে সম্মানিত বোধ করবে।

এক ইরানি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সপ্তাহেই আলোচনা হতে পারে। তবে তাদের মতে, ওয়াশিংটনের ওপর তেহরানের ‘শূন্য আস্থা’ রয়েছে এবং তারা আলোচনায় উইটকফ ও কুশনারকে গ্রহণ করবে না।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর হামলা শুরু করার সময়ও দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ইরান এখন মনে করে, উইটকফ ও কুশনারের নেতৃত্বে সেই আলোচনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশল, যার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের ভান করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

এক কূটনৈতিক সূত্র বলেন, আগের আলোচক দল থাকলে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। ইরান মনে করে আলোচনার প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আরেকটি কৌশল, যাতে নতুন করে হামলার সুযোগ তৈরি করা যায়।

সূত্রটি আরও জানায়, ইরানের কাছে জেডি ভ্যান্স তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়ানো নিয়ে তিনি সন্দিহান হিসেবে পরিচিত ও এ সংঘাত নিয়ে তিনি তুলনামূলক নীরব থেকেছেন।

সূত্রটি বলেন, যদি আলোচনায় কোনো ফল পেতে হয়, তাহলে জেডি ভ্যান্সকে যুক্ত হতে হবে। উইটকফ ও কুশনার থাকলে কোনো ফল আসবে না, অতীতেই আমরা তা দেখেছি।

সোমবার (২৩ মার্চ) ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করতে রাজি হতে পারেন। তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের ‘জোরালো আলোচনা’ চলছে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, খুবই শক্তিশালী আলোচনা হয়েছে। দেখবো পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। আমাদের মধ্যে বড় ধরনের সমঝোতা হয়েছে, প্রায় সব বিষয়েই।

যদিও ইরান এখনো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবে তারা জানিয়েছে ‘বন্ধুসুলভ কিছু দেশ’ যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান, ওমান, তুরস্ক ও মিশরসহ কয়েকটি দেশ সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এরই মধ্যে দুবার ওয়াশিংটন সফর করেছেন ও ট্রাম্প তাকে তার ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হলেও ইরানের পর পাকিস্তানে সবচেয়ে বড় শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা বসবাস করে। এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যেগুলো ইরানের পাল্টা হামলার প্রধান শিকার। সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান।

এদিকে, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এরই মধ্যে পাকিস্তানে পড়েছে। দেশটির অধিকাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে, ফলে সরবরাহ সংকট ও জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।

পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান তাদের কাছে ইসলামাবাদকে আলোচনার জন্য পছন্দের স্থান হিসেবে জানিয়েছে।

তবে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস। এক মুখপাত্র বলেন, এগুলো সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা ও যুক্তরাষ্ট্র গণমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো আলোচনা পরিচালনা করবে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।