ইরান যুদ্ধ
শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ‘রাতভর’ যোগাযোগ পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। এজন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির রোববার (৫ এপ্রিল) রাতভর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাকিস্তানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি দুই ধাপে সাজানো। প্রথম ধাপে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানো।
এ প্রস্তাবের লক্ষ্য হচ্ছে ধাপে ধাপে সংঘাত থামিয়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান সারারাত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ফের চালু করা হবে না। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হলেও কোনো সময়সীমা মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না বলে তারা স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে তেহরানের দাবি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটনের যথেষ্ট প্রস্তুতি নেই।
এর আগে অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা ৪৫ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছে, যা শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
রোববার নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, মঙ্গলবারের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর নতুন হামলা চালানো হবে। তিনি নির্দিষ্ট সময়ও উল্লেখ করেন—মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)।
পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হাজারও মানুষ নিহত হয়েছে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে।
ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। এছাড়া ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপরও হামলা চালায় তেহরান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সতর্ক করে বলেন, যে কোনো সমঝোতায় হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
সূত্র: রয়টার্স
কেএএ/