ট্রাম্পের বিজয় দাবি ও বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ-লেবানন নিয়ে ‘উল্টো সুর’ যুক্তরাষ্ট্রের/ ফাইল ছবি: হোয়াইট হাউজ

ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণ বিজয় অর্জনের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে তিনি বিশ্ব শান্তির জন্য বড় দিন বলেও উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, অপারেশন এপিক ফিউরি যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক বিজয় এবং এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একই ধরনের বিজয়ের দাবি এসেছে ইসরায়েল থেকেও। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই সংঘাত ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং এখন ইরান আর আগের মতো হুমকি নয়।

সংঘাতের সময়জুড়ে ট্রাম্প বিভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেন—যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, সামরিক শক্তি ধ্বংস করা ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও এসব লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালি: নতুন শক্তির কেন্দ্র

যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।

যুদ্ধের আগে যেখানে ইরান এই পথ উন্মুক্ত রেখেছিল, সেখানে এখন যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করলে তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি ইরানকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে তারা এই নিয়ন্ত্রণকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে।

সামরিক ‘বিজয়’ কতটা বাস্তব?

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করেছে। তবে সাবেক মার্কিন জেনারেল জোসেফ ভোটেল বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান এখনও নিয়মিতভাবে হামলা চালাতে সক্ষম, যা প্রমাণ করে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন।

চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার কথা বললেও, তা তাদের আগের অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি।

বিশ্লেষক শিবলি তেলহামি মনে করেন, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানকে আরও বেশি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন কি হয়েছে?

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে পূর্ণ শাসন পরিবর্তন হয়েছে। তবে বাস্তবে একই কাঠামো বহাল রয়েছে, শুধু নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তন এসেছে।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল বেনাইম বলেন, নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তনের লক্ষণ নেই। বরং আরও কট্টরপন্থিরা এখন ইরানের নেতৃত্বে।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।