ট্রাম্প-পুতিনের ফোনালাপ, যুদ্ধ থামাতে সব ধরনের সহায়তায় প্রস্তুত রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বামে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ছবি: এক্স থেকে সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন যুদ্ধ ও চলমান বিশ্ব পরস্থিতি নিয়ে ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ এই তথ্য জানান।

ইউরি উশাকভ জানান, ফোনালাপটি ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে ও এটি ছিল ‘খোলামেলা ও কার্যকর’ ধরনের আলোচনা। এসময় দুই প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে ইরান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও জানান, ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সঠিক, কারণ এটি আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে এবং সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

তবে পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা শুধু ইরান ও তার প্রতিবেশীদের জন্য নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অনিবার্য ও অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিণতি বয়ে আনবে।

উশাকভ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ‘সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে রাশিয়া দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ ও এই ফোনালাপটি মস্কোর উদ্যোগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, পুতিনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তবে তিনি জানান, এই আলোচনায় ইরানের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শেষ করতে ‘সহায়তা করতে চান’, তবে তিনি রুশ নেতাকে আগে ইউক্রেনে আগ্রাসন বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব

উশাকভ সাংবাদিকদের দুই নেতার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার বিষয়েও অবহিত করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে।

তিনি জানান, ট্রাম্পের অনুরোধে ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে আমাদের সেনারা কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে এবং শত্রুর অবস্থান পেছনে ঠেলে দিচ্ছে।

উশাকভ আরও বলেন, ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই মূলত একই ধরনের মূল্যায়ন দিয়েছেন কিয়েভ সরকারের আচরণ নিয়ে, যা [ভলোদিমির] জেলেনস্কির নেতৃত্বে ইউরোপীয়দের প্ররোচনা ও সমর্থনে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার নীতি অনুসরণ করছে।

রাশিয়ার এই আগ্রাসনে ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়েছে, হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন ও লাখো মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

উশাকভ বলেন, পুতিন জানিয়েছেন তিনি বিজয় দিবস উদযাপনের সময়সীমায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে প্রস্তুত। ট্রাম্প এই উদ্যোগকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছেন ও উল্লেখ করেছেন যে এই দিবসটি ‘আমাদের যৌথ বিজয়ের স্মারক।’

রাশিয়ায় প্রতি বছর ৯ মে ‘বিজয় দিবস’ পালিত হয়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির ওপর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে মস্কোর কেন্দ্রস্থলে সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। তবে চলতি বছরের অনুষ্ঠানটি ইউক্রেনের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হবে বলে এর আগে বুধবার জানিয়েছে ক্রেমলিন।

সূত্র: দ্য মস্কো টাইমস

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।